মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

চুয়েটে দ্বিতীয় দিনেও অবরুদ্ধ উপাচার্য, ভবনে ঝুলছে তালা


চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ কয়েকজন শিক্ষক, ছাত্রদল নেতা ও সাবেক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় দিনের মতো উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সোমবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ অবস্থানের কারণে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালেও তাঁরা ভবন থেকে বের হতে পারেননি। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ 

চুয়েটে দ্বিতীয় দিনেও অবরুদ্ধ উপাচার্য, ভবনে ঝুলছে তালা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। ভবনটির ভেতরে উপাচার্যের সঙ্গে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রানা, চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

সোমবার দুপুর থেকে অবরুদ্ধ থাকার পর রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে পদত্যাগ করে ভবন ছেড়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দেন। তবে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ভবনের ভেতরে অবস্থানরত উপাচার্য জানিয়েছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁকে কোনো লিখিত দাবি দেওয়া হয়নি। লিখিতভাবে দাবি জানানো হলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) অবহিত করার সুযোগ থাকত বলেও জানান তিনি।

উপাচার্য বলেন, তাঁর সঙ্গে চারজন সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন তাঁর বন্ধু এবং দুজন জ্যেষ্ঠ সহপাঠী। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছয়-সাতজন শিক্ষার্থীও সেখানে রয়েছেন। আন্দোলনের বিষয়ে আপত্তি না থাকলেও ভবনে প্রবেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়াকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে অবরুদ্ধ অবস্থায় তাঁর সঙ্গে থাকা দুজন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

যেভাবে শুরু অবরোধ

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে উপাচার্য ভবনে তাঁর অবস্থান ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

নিয়োগ নিয়ে বিরোধ, বন্ধ শিক্ষা কার্যক্রম

গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ। সোমবার এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয় অসহযোগ আন্দোলন। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিরোধের সমাধান না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।