স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা, আইনে সংশোধনের উদ্যোগ ইসির
১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
গত সোমবার দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে চকবাজারের এক্সেস রোডে অবস্থিত ডিডিএন অফিসে মুখে মাস্ক পরা ১৫ থেকে ২০ জনের একদল সশস্ত্র তরুণ ও যুবক আকস্মিক প্রবেশ করে। তাদের হাতে চাইনিজ কুড়াল, হাতুড়ি ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা অফিসের ভেতরে থাকা কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, আসবাবপত্র ও গ্লাস ভাঙচুর করতে শুরু করে। মাত্র ৩ মিনিটের এই তাণ্ডবে পুরো কার্যালয় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির জানান, ভাঙচুরের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুটে নেয় সন্ত্রাসীরা।
হামলার দুদিন আগে গত ১১ জুলাই ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুনের কাছে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করেন সন্ত্রাসী ডেবিট ইমন। ৬ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের সেই অডিও রেকর্ডে ইমনকে বলতে শোনা যায়, “বিগত ১৭-১৮ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যবসা করেছেন, আর কত করবেন? এখন থেকে আমরা করবো। ৫ আগস্টের পর ৮-১০টা মার্ডার মামলা খেয়ে ঘুরতেছি। চট্টগ্রাম শহরের সব ব্যবসায়ী আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই ব্যবসা করছে। পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেবেন আমি কে।” একই সাথে সে স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবের বাসায় হামলার উদাহরণ টেনে ২ কোটি টাকা এককালীন এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার হুমকি দেয়।
ঘটনার পর পরই সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাবিবুর রহমান প্রামাণিক এবং চকবাজার থানার ওসি নূর হোসেন মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপ-পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা হামলার ও হুমকির অডিও-ভিডিও পর্যবেক্ষণ করেছি। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। ভুক্তভোগীদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।” চকবাজার থানার ওসি জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলার আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে মোবারক হোসেন ওরফে ডেবিট ইমন একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেওয়ার পর দ্রুত অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ নেয়। বিদেশি পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বর্তমানে দুবাইয়ে বসে সে চট্টগ্রামে তার বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সাজ্জাদ ও ইমনের প্রায় ৫০ জনের বেশি সক্রিয় শুটার রয়েছে এবং তাদের হাতে একে-৪৭ সহ অন্তত ২০টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। ২০২৫ সালের বাকলিয়ার জোড়া খুন এবং পতেঙ্গার ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ মোট ৭টি মামলার আসামি সে। এর আগে গত ৯ মে এক সাংবাদিককে এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের পরিচালকের বাসায় গুলি বর্ষণের ঘটনার পেছনেও ইমনের হাত ছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।