বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

কেকেআর ছাড়লেও ক্ষতিপূরণ পাবেন না মোস্তাফিজ, কারণ কী?


ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ছাড়তে হলেও কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের। চুক্তি বাতিলের পেছনে ব্যক্তিগত কোনো দায় না থাকলেও আইপিএলের বিদ্যমান বিমা নীতিই এর মূল কারণ।

৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ 

কেকেআর ছাড়লেও ক্ষতিপূরণ পাবেন না মোস্তাফিজ, কারণ কী?
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) হস্তক্ষেপে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ পড়লেও কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না মোস্তাফিজুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে প্রশ্ন উঠলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান আইপিএল বিমা কাঠামোর আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ নেই এই টাইগার পেসারের।

গত মাসে অনুষ্ঠিত আইপিএল নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেয় কেকেআর। তবে ভারতের কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর আন্দোলনের মুখে বিসিসিআই হস্তক্ষেপ করলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে ফিজকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হতে হয়। চুক্তি বাতিলের ঘটনায় মোস্তাফিজের কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ, চোট কিংবা পারফরম্যান্সজনিত কারণ নেই। তবুও আইপিএলের বিমা নীতির কারণে তিনি কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছেন না।

পিটিআইকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইপিএল-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ‘আইপিএলের সব খেলোয়াড়ের বেতন বিমাকৃত। তবে বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সাধারণত টুর্নামেন্ট চলাকালে বা ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর চোট পেলে বিমার সুবিধা কার্যকর হয়। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ পাওয়া যায়। মোস্তাফিজের চুক্তি বাতিল চোটজনিত নয়, কিংবা এটি ক্রিকেটীয় কোনো কারণে হয়নি। ফলে এই ঘটনা বিমা কাভারেজের আওতায় পড়ে না। কেকেআরের ওপর তাকে অর্থ পরিশোধের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতাও নেই।’

সূত্রের মতে, এই পরিস্থিতিতে মোস্তাফিজের সামনে একমাত্র পথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। তবে সেটিও জটিল। কারণ আইপিএল ভারতীয় আইনের অধীন পরিচালিত হয় এবং বিদেশি ক্রিকেটাররা সাধারণত কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এ যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চান না। রেকর্ড অঙ্কে দলভুক্ত হয়েও কোনো পেশাদারী ত্রুটি বা শৃঙ্খলাভঙ্গ ছাড়াই মোস্তাফিজুর রহমানকে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই আইপিএল ছাড়তে হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এ ঘটনায় পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের পরিবর্তে অন্য ভেন্যুতে নিজেদের ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।