শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪

মন্ত্রীদের সম্পদ বেড়েছে ৫-৭ গুণ, বেশি সাঈদ খোকনের


১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ 

মন্ত্রীদের সম্পদ বেড়েছে ৫-৭ গুণ, বেশি সাঈদ খোকনের
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে ঢাকার ২০টি আসনে ২৩৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সম্পদ পাঁচ-সাত গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র (মন্ত্রীর মর্যাদা) ও ঢাকা-৬ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের আয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঋণ আছে পাঁচ কোটি ৬১ লাখ ২৭ হাজার ৫০৯ টাকা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি), মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের স্ত্রীরা গত ১০ বছরে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টির নেতাদেরও শূন্য থেকে কোটি কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রীর আয় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী আসাদুজ্জামান খান কামালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নগদ টাকা ছিল ১৬ লাখ ৫৩ হাজার। এখন তাঁর কাছে নগদ টাকা আছে ৮৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৬ টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানে তাঁর নগদ টাকা বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি। তাঁর স্ত্রীর নগদ টাকা আছে এক কোটি সাত লাখ ৫৬ হাজার ২২ টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তাঁর স্ত্রীর নগদ টাকা ছিল এক লাখ ১৮ হাজার ৪৫৬ টাকা।

এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রীর নগদ টাকা বেড়েছে ৯০ গুণের বেশি। ২০১৮ সালে একাদশ নির্বাচনের সময় তাঁর নগদ টাকা ছিল ৩৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪৬ টাকা। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রীর আয় বেড়েছে এক কোটি ২২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৩ টাকা। ২০১৩ সালে স্ত্রীর বার্ষিক আয় ছিল শূন্য।

পাঁচ গুণ আয় বেড়েছে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান ঢাকা-১৯ আসনের প্রার্থী। ১০ বছরে তাঁর আয় বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি। ২০১৩ সালে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ছয় লাখ ৮৪ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী তাঁর আয় ছিল ৩০ লাখ টাকার বেশি। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এনামুর। সম্প্রতি জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে বছরে ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে তাঁর আয় বছরে পাঁচ গুণের বেশি বেড়েছে।

শিল্প প্রতিমন্ত্রীর সম্পদ সাত গুণের বেশি

বর্তমানে কামাল আহমেদ মজুমদারের অস্থাবর সম্পদ আছে ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা সমমূল্যের। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে তাঁর অস্থাবর সম্পদ ছিল এক কোটি ৪০ লাখ টাকা সমমূল্যের। এতে তাঁর অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে সাত গুণের বেশি। তবে তাঁর নগদ টাকা গত ১০ বছরে প্রায় আড়াই গুণ কমেছে।

সাবের হোসেনের আয় কমেছে

ঢাকা-৯ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদ আছে ৪৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৫ টাকা। ২০১৩ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর অস্থাবর সম্পদ ছিল ১৯ কোটি ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৩৪ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় এক কোটি ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৬ টাকা। ২০১৩ সালে বার্ষিক আয় ছিল এক কোটি ৫০ লাখ পাঁচ হাজার ১১০ টাকা। সাবের হোসেনের নগদ টাকা আছে দুই লাখ ৭৩ হাজার ১০০ টাকা। ২০১৩ সালে নগদ টাকা ছিল ১৭ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮০ টাকা এবং ২০১৮ সালে তিন লাখ ৭৬ হাজার ৮৬৮ টাকা।

সাবেরের স্ত্রী রেহানা চৌধুরীর নামে অস্থাবর সম্পদ আছে ৪০ কোটি ৩৩ লাখ ৪০ হাজার ১৪৬ টাকার। ২০১৩ সালে রেহানার সম্পদ ছিল ১০ কোটি ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৪ টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানে তাঁর সম্পদ বেড়েছে প্রায় চার গুণ।

সাঈদ খোকনের আয় বেড়েছে ২৭ গুণ

ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র ও ঢাকা-৬ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের বর্তমানে বার্ষিক আয় ১১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৬ টাকা। এতে তাঁর মাসিক আয় ৯৬ লাখ ১২ হাজার ১৭১ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি ও দোকানভাড়া থেকে আয় হয় ছয় কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬ টাকা। অন্যান্য (বন্ড) আয় চার কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

২০১৫ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৪১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪০ টাকা। আট বছরের ব্যবধানে তাঁর বার্ষিক আয় বেড়েছে ২৭ গুণ। সাঈদ খোকনের নগদ টাকা আছে দুই কোটি ৫০ লাখ। ২০১৮ সালে ছিল এক কোটি ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৮ টাকা। তাঁর স্ত্রীর নগদ টাকা আছে এক কোটি ১৫ লাখ। ২০১৮ সালে নগদ টাকা ছিল ৩০ লাখ। এ ছাড়া  বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত ৯ কম্পানির শেয়ার আছে ৮০ কোটি টাকার।

নানক ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা ঋণী

ঢাকা-১৩ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ঋণ আছে পাঁচ কোটি ৬১ লাখ ২৭ হাজার ৫০৯ টাকা। এর মধ্যে তাঁর স্ত্রী ও কন্যার কাছে ঋণ আছে দুই কোটি ৪১ লাখ দুই হাজার টাকা। ইউসিবিএল ও অগ্রণী ব্যাংকে ঋণ আছে দুই কোটি ৮৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৯১ টাকার। নির্মাণসামগ্রী ক্রয় বাবদ ঋণ আছে ৩৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯১৮ টাকা। ২০১৩ সালে নানকের অগ্রণী ব্যাংকে ঋণ ছিল দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেননি।

বাহাউদ্দিনের অর্থ বেড়েছে ১৭ গুণ

ঢাকা-৮ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের নগদ টাকা আছে সাত কোটি ৬৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬১। ২০১৩ সালে নগদ ছিল ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার ৩০ টাকা। এতে ১০ বছরে তাঁর নগদ অর্থ বেড়েছে ১৭ গুণের বেশি। কৃষি খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় এক লাখ ৯৩ হাজার, বাসা ও দোকানভাড়া ৬০ লাখ ৮৪ হাজার ৪৪৯ টাকা। তাঁর স্ত্রীর নগদ আছে তিন কোটি চার লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৮ টাকা। ২০১৩ সালে ছিল ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ৬৩৯ টাকা। তাঁর নগদ টাকা বেড়েছে ১৬ গুণ। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেননি।

আ. লীগের নতুন প্রার্থীরাও কোটিপতি

ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ৯টি আসনে আওয়ামী লীগ নতুন প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-৫, ৭, ১০, ১১ ও ১৪ আসনে আওয়ামী লীগের পাঁচজন প্রার্থী প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন। অন্য চার আসনের তিনজন সাবেক এমপি, একজন দক্ষিণ সিটির মেয়র ছিলেন।

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে সোলায়মান সেলিম মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁর কাছে নগদ আছে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ৯২২ টাকা। ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় এক কোটি ৪৬ লাখ এক হাজার ৯৩৮ টাকা।

ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ। একাধিক প্লট-ফ্ল্যাটের মালিক চিত্রনায়ক ফেরদৌস নিজে ২০ লাখ টাকা দামের গাড়ি ব্যবহার করলেও তাঁর স্ত্রী চড়েন এক কোটি ৮৫ লাখ টাকার গাড়িতে। স্ত্রীর আছে ৪০ ভরি স্বর্ণ। তাঁর নিজের স্বর্ণালংকার ২০ ভরি।

ঢাকা-১১ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ ওয়াকিল উদ্দিনের বার্ষিক আয় এক কোটি ৮৪ লাখ ৫১ হাজার ৬৯ টাকা। তাঁর নগদ টাকা আছে ১১ কোটি ২৬ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৪। ওয়াকিলের স্ত্রীর নগদ টাকা আছে দুই কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার ১৭১।      

জাপার এমপিরা শূন্য থেকে কোটিপতি

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের ২০১৩ ও ১০১৮ সালে  কৃষি, বাড়িভাড়া, ব্যবসা, শেয়ার বা সঞ্চয়পত্র, চাকরিতে আয় দেখাননি। এবারের হলফনামায় বলা হয়েছে, বাড়িভাড়া থেকে আয় তিন লাখ, শেয়ার বা সঞ্চয়পত্র আছে ৩০ লাখ টাকার।

ঢাকা-১ ও ১৭ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালমা ইসলামের ২০১৩ সালে অন্যান্য খাতে কোনো আয় ছিল না। এবার অন্যান্য খাতে তাঁর আয় দেখানো হয়েছে ৭৩ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ২৮৬ টাকা। তাঁর স্বামী যমুনা গ্রুপের কর্ণধার নুরুল ইসলাম বাবুলের মৃত্যুর পর তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক সম্পদ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা-৬ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদের স্ত্রী ২০১৩ সালে কৃষি, বাড়িভাড়া, ব্যবসা, শেয়ার বা সঞ্চয়পত্র ও চাকরিতে আয় দেখাননি। এবার তাঁর স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৭৪ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৩ টাকা। ঢাকা-৭ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দীন আহমেদ মিলন। তাঁর নগদ ২৮ লাখ ৯৯ হাজার ৩০৭ টাকা আছে।

  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন