শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪

আ'লীগের মনোনয়ন নিয়ে দু'ভাইয়ের দ্বন্দ্ব চরমে


১৭ নভেম্বর ২০২৩, ৫:১৩ অপরাহ্ণ 

আ'লীগের মনোনয়ন নিয়ে দু'ভাইয়ের দ্বন্দ্ব চরমে

দুই সহোদর | ছবি: আজকের প্রসঙ্গ

  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

১১৪, পটুয়াখালী-৪ নির্বাচনী এলাকায় এবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাইছেন একই পরিবারের দুই সহোদর ভাই। এতে তাঁদের পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও দলের অনুসারী নেতা-কর্মীরা পড়েছেন বিপাকে।

কোন উদ্যোগই তাঁদের একীভূত করতে না পারায় তাঁদের দ্বন্দ্ব এখন চরমে। এদের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: মাহবুবুর রহমান। যিনি অষ্টম, নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে এমপি নির্বাচিত হন। এবং নবম সংসদের পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিঁনি ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলে গঙ্গামতি নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলে টেন্ডারবাজি, জমি দখল করে রাতারাতি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হন । এতে দুদক মাহবুব ও তাঁর স্ত্রী প্রীতি হায়দার উভয়ের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে এবং দু’জনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে।

এছাড়া খেপুপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ১০ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাত, সরকারী মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু করেছে দুদক। তিঁনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ’রাতের ভোট’ বলে মন্তব্য করায় বিব্রত অবস্থায় পড়ে দল। জেলা আওয়ামীলীগ থেকে তাঁকে বহিস্কারের জন্য রেজুলেশন পাঠানো হয় দলের হাই কমান্ডের কাছে।

অপরদিকে একই আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাইছেন মাহবুবের কনিষ্ঠ ভ্রাতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মো: হাবিবুর রহমান মিলন। তিঁনি  সাবেক এনএসআই, পরিচালক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য। তার ব্যাপারে অভিযোগ আছে তার বড় ভাই মাহবুবের সমস্ত দূর্নীতিকে এনএসআই এর পরিচালক পদ ব্যাবহার করে সুরক্ষা ও সহযোগীতা করেছেন এবং যৌথ ভাবে অবৈধ অর্থ ভোগ করেছেন।ভবিষ্যতে আবার ক্ষমতা ব্যবহার করে লুটপাটের মোহে মরিয়া।তিঁনি তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা মাহবুবকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা সহ সকল নির্বাচনে পর্দার আড়ালে থেকে ভূমিকা রেখেছেন।

এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিঁনি যখন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাইছেন তখন বেঁকে বসেছে মাহবুব। এতে দু'ভাইয়ের কোন্দল এখন টক অব দ্য টাউন।   প্রকাশ থাকে যে তাদের ভগ্নিপতি জামাতের রোকন - মজিবর, মাহবুবের তিন আমলেই কলাপাড়ার সকল উন্নয়ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করতো এবং আওয়ামী লীগের সব নেতা কর্মিরা ছিল সুবিধা বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ, এ ছাড়া এলাকায় ব্যাপক আলোচনা আছে ব্রিগেডিয়ার (অব:) হাবিবের স্ত্রী একজন সক্রিয় জামাত কর্মী এবং তার সরকারি চাকরি কালিন সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জামাতের কাছে পাচার হতো।

সূত্র জানায়, কলাপাড়া উপজেলার দুইটি পৌরসভা, ১২টি ইউনিয়ন এবং রাঙ্গাবালী উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ১১৪ পটুয়াখালী-৪ আসন। এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪১ জন। এর মধ্যে কলাপাড়ায় এক লাখ ৯৯ হাজার ৪৫৫ জন। আর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৮৮ হাজার ৮৮৬ জন। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৬৭ জন এবং মহিলা ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪ জন। দক্ষিনাঞ্চলের এ জনপদে আওয়ামীলীগ সরকার লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প দেশের উন্নয়ন ও সৃমদ্ধিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। দক্ষিন উপকূলের এ নির্বাচনী এলাকার মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীককে স্বাধীনতার পর থেকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে।

উল্লেখ্য যে বিএনপি শাসনামলেও নৌকা বিজয়ী হয়েছে এ নির্বাচনী এলাকায়। তবে স্বৈরাচার এরশাদ শাসনামলে ভোটবাক্স ছিনিয়ে নিয়ে এমপি হন জাপা প্রার্থী। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ৯০ হাজার ৭৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এ আসনে। চারদলীয় জোটের বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৬০ হাজার ১২ ভোট। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে আওয়ামীলীগের প্রার্থী।

২০১৮ সালে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগের অধ্যক্ষ মো: মহিব্বুর রহমান। তিনি এমপি হওয়ার পর এ জনপদের সকল নদী, খাল, স্লুইজ, কালভার্ট কৃষকের জন্য উম্মুক্ত করেন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, শালিশ বানিজ্য মুক্ত করেন এ জনপদকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ করোনাকালে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, কখনও ভ্যানে কখনও ডিঙি নৌকায় চড়ে কাঁদা পানিতে নেমে দু:স্থ মানুষের বাড়ী বাড়ী তাঁর খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া ছিল প্রশংসনীয়। প্রতি বছর দরিদ্র পরিবারের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরন, তাদের স্বাবলম্বী করতে অর্থের যোগান দেয়া সহ  স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা সহ স্বাস্থ্য সেবার উন্নত করতে হাসপাতাল স্থাপন করেছে তাঁর পরিবার।

আর এ জন্য আওয়ামীলীগের আস্থা অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমানের উপর। তিনি এবারও দলের মনোনয়ন চাইছেন এ আসন থেকে এবং মনোনয়ন যুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে জানায় দলীয় সূত্র। এছাড়া এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবিএম মোশাররফ হোসেন। চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাত পাখা প্রার্থী মুফতি হাবিবুর রহমান। জাসদ (ইনু) মশাল মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন সাংবাদিক বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু এবং জাপা (এ) প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে আমজাদ হোসেন হাওলাদারের।

 

  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন