শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪

এমআরটি পাস ও র‍্যাপিড পাস: কোন কার্ডে কি সুবিধা?


অদূর ভবিষ্যতে র‍্যাপিড পাস ঢাকার সব ধরনের পরিবহন সেবায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের

১৬ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ 

এমআরটি পাস ও র‍্যাপিড পাস: কোন কার্ডে কি সুবিধা?
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

প্রায় বছর খানেক আগে মেট্রোর যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। গত বছরের ডিসেম্বরে এমআরটি-৬ উদ্বোধন করা হয়। এরমধ্যে দিয়ে যানজটের নগরীরে গতির সঞ্চয় হয়। তবে মেট্রোর পুরোপুরি সুবিধা এখনো ভোগ করতে পারছেন না নগরবাসী। এই আধুনিক গণপরিবহনটিতে যাতায়াতে সিঙ্গেল পাস, এমআরটি পাস ও র‌্যাপিড পাস ব্যবহার করছেন নিয়মিত যাত্রীরা।

শুরুতে সিঙ্গেল পাস ব্যবহার করলেও নভেম্বরের শুরু থেকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) র‌্যাপিড পাসের জনপ্রিয়তা বাড়াতে প্রচারণা শুরু করে। অদূর ভবিষ্যতে র‌্যাপিড পাস ঢাকার সব ধরনের পরিবহন পরিষেবায় যুক্ত হতে পারে। তবে বর্তমানে এমআরটি-৬ মেট্রোরেল ও নির্দিষ্ট কিছু বিআরটিসি বাসে র‍্যাপিড পাস ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

এমআরটি পাস

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক সংযোগবিহীন স্মার্ট আইসি কার্ড হলো এমআরটি পাস। এই কার্ড দিয়ে ঝামেলা ছাড়াই সহজে মেট্রোরেলের ভাড়া পরিশোধ করা যায়। ভবিষ্যতে বাস, লঞ্চ ও মেট্রোরেল কর্তৃক পরিচালিত শপিংমলে এই কার্ড ব্যবহার করে বিল পরিশোধ করা যাবে।

যাত্রীদের সুবিধায় টিকিটের পাশাপাশি এমআরটি পাস কার্ডের ব্যবস্থা আগেই করে রেখেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। যারা বারবার টিকিট কাটতে চান না—তাদের জন্য এমআরটি পাস কার্ড। এই কার্ডে টাকা রিচার্জ করে যতবার খুশি যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া এ কার্ডের মেয়াদ থাকবে ১০ বছর।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এমআরটি পাস ব্যবহারকারীরা অদূর ভবিষ্যতে বিভিন্ন পরিবহন ব্যবহারের জন্য এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

ডিএমটিসিএল-এর ওয়েবসাইট (dmtcl.gov.bd) থেকে একটি ফরম ডাউনলোড করতে হবে। সেটি পূরণ করে মেট্রোরেলের টিকিট কাউন্টারে জমা দিলেই পাওয়া যাবে এমআরটি পাস কার্ড। নিবন্ধন করতে নিজের নাম, মাতা-পিতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বর, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল আইডি লাগবে। বর্তমানে বেলা ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পাস দেওয়া হচ্ছে।

এমআরটি কার্ড নিতে হলে খরচ হবে ৫০০ টাকা। এরমধ্যে ২০০ টাকা কার্ডের জামানত হিসেবে থাকবে, যা কার্ড জমা দিলেই ফেরত পাওয়া যাবে। বাকি ৩০০ টাকা ব্যালেন্স থাকবে যা দিয়ে ট্রেনে যাতায়াত করা যাবে। যে কোনো স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে কার্ডে টাকা রিচার্জ করা যাবে।  টিকিট বিক্রির মেশিনেই টপ আপ অপশন রয়েছে। যেখান থেকে সহজেই টাকা দিয়ে রিচার্জ নেওয়া যাবে।

র‍্যাপিড পাস

মেট্রোরেলের যাত্রীদের আনা-নেওয়ার জন্য উত্তরা (হাউজ বিল্ডিং) থেকে দিয়াবাড়ি ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) স্টেশন পর্যন্ত বিআরটিসি শাটল বাসে চালু হয়েছে র‍্যাপিড পাস। ফলে যাত্রীরা র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পাস ব্যবহার করে মেট্রোরেলে যাতায়াতের পর আবার র‌্যাপিড পাস ব্যবহার করে বাসেও যেতে পারবেন।

দেশের গণপরিবহনের সমন্বিত ই-টিকেটিং ব্যবস্থা ও ভাড়া আদায়ে সর্বাধুনিক স্মার্ট কার্ড “র‍্যাপিড পাস” সুবিধা চালু করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ। দেশের বিভিন্ন গণপরিবহন যেমন- মেট্রোরেল, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি’র নৌ-যান সার্ভিস, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন বাস সার্ভিসে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে যাতায়াতে ঝামেলাহীন পেমেন্ট সুবিধা পেতেই র‍্যাপিড পাস সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারকে জানান, এমআরটি-৬ ও বিআরটিসির বাসে র‍্যাপিড পাস ব্যবহার করা যাবে। ভবিষ্যতে নগর পরিবহন, রেলওয়ে ও এক্সপ্রেসওয়েতে টোল আদায়ে এই কার্ডটি ব্যবহার করা হবে।

র‌্যাপিড পাসটি ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের নির্বাচিত শাখায়, উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন ও আগারগাঁওয়ের এমআরটি-৬ বুথ থেকে পাওয়া যাবে।

  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন