মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

সর্বাধিক পঠিত


শান্তির শহরে এখন সন্ধ্যা নামলেই অশান্তি


১ নভেম্বর ২০২৩, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ 

শান্তির শহরে এখন সন্ধ্যা নামলেই অশান্তি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

শান্তির শহর খ্যাত রাজশাহী শহরে গত কয়েকদিন খুন–ছিনতাই বাড়ছে। এক রাতে দুটি বড় অঘটন ঘটে গেল রাজশাহী শহরে। দুজন খুন হলেন। তাঁদের একজন চিকিৎসক, অপরজন পল্লিচিকিৎসক। রাজশাহী শহরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে জখম হয় আরও দুইজন ছাত্র। তাঁদের একজনের বুকে ৫০টি, অন্যজনের বুকে ৩০টি সেলাই দিতে হয়েছে। কয়েক দিন আগে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে খুন হন এক কলেজছাত্র।

রাজশাহী শহরে একের পর এক ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শান্তির শহর খ্যাত রাজশাহী শহরে এখন সন্ধ্যা নামলেই ‘অশান্তি’ নেমে আসছে।

এমনই পরিস্থিতির মধ্যে রাজশাহী শহরে রামদা, চাপাতি, চায়নিজ কুড়ালসহ নানা ধরনের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল কিশোরের উল্লাস করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। শহরে বাজনার তালে তালে অস্ত্র উঁচিয়ে নাচানাচিও করছে কিশোরেরা। বলা হচ্ছে, অস্ত্র হাতে কিশোরদের উল্লাসের ভিডিওটি রাজশাহী শহরে শাহ মখদুম থানার গাংপাড়া এলাকার। যদিও পুলিশ বলছে, ভিডিওটি অন্তত চার মাসের পুরোনো। অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে কেউ ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছে।

রাজশাহী শহরে দুই চিকিৎসককে খুন ও দুই ছাত্রকে জখমের ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এসব ঘটনার কোনো কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি গত বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) রাতে রাজশাহী শহরে কাটাখালী থানার হরিয়ানে মো. শাহীন (৩৪) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে ফাঁকা গুলি করে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। ২৫ দিন পার হলেও ওই ঘটনার কোনো সূত্র পায়নি পুলিশ। দুই চিকিৎসককে হত্যার সঙ্গে কাটাখালীর ওই হামলার মিল আছে। তিনটি ঘটনার ক্ষেত্রেই দুর্বৃত্তরা মাইক্রোবাস থেকে নেমেছে। দুটি জায়গায় তারা ফাঁকা গুলি করেছে। এসব ঘটনায় রাজশাহী শহরে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

আরও পড়ুন

দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কিশোরদের উল্লাস

এর আগে রাজশাহী শহরে কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম মুন্সিপাড়া এলাকায় ১১ অক্টোবর মাহফুজুর হোসেন (৩৮) নামের এক যুবকের লাশ নিখোঁজের ১০ দিন পর তাঁর বন্ধুর বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়। মাহফুজুরকে ১ অক্টোবর অপহরণ করে ১ কোটি ও পরে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল।

১৭ সেপ্টেম্বর ভোরে ছিনতাইকারীর হামলায় আহত হন রাজশাহী কলেজের ছাত্র নিশাদ আকরাম (২৪)। তাঁর বাড়ি নওগাঁর নিয়ামতপুরে। তিনি রাজশাহী কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৬ দিন হাসপাতালে অচেতন থাকার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নগরের বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে চেতনা না ফেরায় তাঁর কাছ থেকে ছিনতাইকারীদের সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি।

২৬ অক্টোবর চলচ্চিত্র পরিচালক তৌকির ইসলাম ট্রেন থেকে নেমে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহী শহরের ভদ্রা এলাকায় যাচ্ছিলেন। রেশম বোর্ডের সামনে তাঁর স্ত্রীর হাত থেকে ব্যাগটি টান দিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। পরদিন শহরে বোয়ালিয়া থানায় তিনি একটি মামলা করেন। ব্যাগে মুঠোফোন ও অন্যান্য জিনিসপত্র ছিল। একই এলাকায় ২৩ অক্টোবর তাহমিনা বেগম নামের এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ব্যাগে তাঁর মুঠোফোন ও স্বামীর পেনশনের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল।

এর আগে রাজশাহী মহানগর পুলিশ ১ হাজার ৫০০ কিশোর গ্যাংয়ের তথ্যভান্ডার তৈরি করেছিল, যারা প্রত্যক্ষভাবে ছিনতাইয়ে জড়িত। রাজশাহী শহরে বিভিন্ন পয়েন্টে ৪৫০ সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১০০ ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

রাজশাহীতে অস্ত্র নিয়ে কিশোরদের উল্লাসের ভিডিওর ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহ মখদুম থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, এই কিশোর গ্যাং গ্রুপেরই এক ছেলের নাম আরাফাত। তাকে চারদিন আগে একই গ্রুপের অন্যরা মেরেছে। আরাফাত এখন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছেলেটাকে মারধরের কারণে তার পক্ষের কেউ ভিডিওটা ছেড়ে দিয়েছে। আরাফাতের অভিভাবক গতকাল সোমবার (৩০ অক্টোবর) থানায় অভিযোগ করতে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি কারও নাম জানাতে পারেননি। তবে মামলা হয়েছে। এখন কারা আরাফাতের ওপর হামলা করেছে এবং চার মাস আগে কারা অস্ত্র হাতে উল্লাস করছিল তার সবকিছুই বেরিয়ে আসবে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আরাফাতের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। ইতোমধ্যে তার মাথায় অস্ত্রপচার করা হয়েছে। এখনও শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, চারদিন আগে হাসপাতালে আনার পরেই আরাফাতকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।

  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন