মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

সর্বাধিক পঠিত


বঙ্গবন্ধু টানেলের টোল নির্ধারণ, পার হতে লাগবে যত টাকা


টানেল যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। আজ শনিবার (২৮শে অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ায় নদী তলদেশের প্রথম ও দীর্ঘতম সড়ক সুড়ঙ্গপথ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ ১১ টা ৪০ মিনিটে উদ্ধোধন করেন।
বঙ্গবন্ধু টানেলের টোল নির্ধারণ, পার হতে লাগবে যত টাকা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আজ রোববার (২৯ অক্টোবর) ভোর ৬টায় বঙ্গবন্ধু টানেল খুলে দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু টানেল খুলে দেওয়ায় পর সকাল ৬টা থেকে ১ ঘণ্টায় গাড়ি পার হয়েছে ৭২টি এবং ৮টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় পার হয়েছে ১২১টি গাড়ি। এ সময় ১২১টি গাড়ি থেকে ৩০ হাজার ৫০০ টাকার টোল আদায় হয়েছে। এ ছাড়া দুই প্রান্তে আরও কয়েকশ গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান টোল আদায়কারীরা।

প্রকল্প পরিচালক হারুন অর রশীদ জানান, রোববার ভোর ৬টা থেকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় টানেল। এরপর থেকে গাড়ি চলাচল করছে।

আরও পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম টানেল উদ্ধোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

এর আগে টানেল পারাপারের জন্য টোল নির্ধারণ করে দেয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সেতু বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জিপ বা পিকআপের জন্য ২০০ টাকা এবং মাইক্রোবাসের জন্য টোল ২৫০ টাকা। বাসের ৩১ আসন বা এর কম হলে টোল ৩০০ টাকা, ৩২ আসন বা তার বেশি হলে ৪০০ টাকা এবং ৩-এক্সেল বাসের জন্য টোল ৫০০ টাকা। ট্রাক-৫ টন পর্যন্ত ৪০০ টাকা, ৮ টন পর্যন্ত ৫০০ টাকা এবং ৮ থেকে ১১ টনের ট্রাকের টোল ৬০০ টাকা। মালবাহী ৩ এক্সেল ট্রেলারের টোল ৮০০ টাকা, ৪ এক্সেল ট্রেলারে ১ হাজার টাকা এবং ৪ এক্সেলের বেশি প্রতি এক্সেলের জন্য ১ হাজারের সঙ্গে ২০০ টাকা যোগ করে টোল দিতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ আবুল কালাম আজাদ জানান, টোল আদায়ের জন্য ১২টি বুথ আছে। প্রথমদিন ১০টি চালু করা হয়েছে। এখানে তিনভাবে টোল দেয়ার সুযোগ আছে। তবে বর্তমানে ম্যানুয়ালি টোল আদায় করা হচ্ছে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীরে টানেলটি নির্মাণ করা হয়েছে। মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। চার লেন বিশিষ্ট দুটি টিউবের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। গত বছরের ২৬ নভেম্বর টানেলের দক্ষিণ প্রান্তের একটি টিউবের পূর্তকাজের সমাপ্তি উদযাপন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া মূল টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ও আনোয়ারা প্রান্তে ৭২৭ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ফ্লাইওভার থাকবে।

২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি টানেলের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। শুরুতে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। এর মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক ২ শতাংশ সুদে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা দিচ্ছে। বাকি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

উল্লেখ্য, এ টানেলে প্রথম যাত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা প্রান্তে ফলক উন্মোচনের মধ্যে দিয়ে বহু প্রতীক্ষিত টানেল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর নিজ হাতে টোল দিয়ে টানেল পার হয়ে আনোয়ারা প্রান্তে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন তিনি।

  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন