শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪

জন্ম নিবন্ধন বা জন্ম সনদ ডিজিটাল করার নিয়ম


জন্ম নিবন্ধন বা জন্ম সনদ- হাতে লেখার দিন শেষ, এখন ডিজিটাল দুনিয়া।।

৯ অক্টোবর ২০২৩, ৪:১১ অপরাহ্ণ 

জন্ম নিবন্ধন বা জন্ম সনদ ডিজিটাল করার নিয়ম
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

জন্ম নিবন্ধন বা জন্ম সনদ কিভাবে করবেন/ জন্ম নিবন্ধন বা জন্ম সনদ ডিজিটাল করার নিয়ম/ পুরাতন জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার নিয়ম/ হাতে লেখা পুরাতন জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার নিয়ম

জন্ম নিবন্ধন- হাতে লেখার দিন শেষ, এখন ডিজিটাল দুনিয়া, সবকিছুই ডিজিটাল হচ্ছে পর্যায়ক্রমে। 

একটি শিশুর জম্মের পর নিজ দেশকে এবং বিশ্বকে আইনগতভাবে জানান দেয়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন। জন্ম নিবন্ধন হলো একটা মানুষের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তাই জন্ম নিবন্ধন যে কোন নাগরিকের জন্যই অনেক গুরুত্ব বহন করে। 

জন্ম নিবন্ধন বা জন্ম সনদ দৈনন্দিন জীবনে আমাদের সবারই দরকার লাগে। একটা সময় ছিল যখন হাতে লিখে জন্ম নিবন্ধন দেওয়া হতো। কিন্তু সময়ের পালাবদলে এই প্রথা আজ বিলুপ্তির পথে,কেননা হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন এখন আর কোনো প্রতিষ্ঠানই একসেপ্ট করতে চায় না। আর এজন্য হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন বা জন্ম সনদ অনলাইন অথবা ডিজিটাল করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাই অনেকেই প্রশ্ন করেন হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার নিয়ম কি? অথবা হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন কিভাবে ডিজিটাল করবো? তাঁদের জন্যই আজকের এই আয়োজন। 

তাহলে চলুন জেনে নেই-হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন বা এনালগ জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার সকল নিয়ম কানুন।

আজ আমি এই অংশে জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার পদ্ধতিগুলু বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেছি। তাছাড়া, পুরাতন জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করতে কি কি লাগে তাও আপনাকে পর্যায়ক্রমে বলে দিচ্ছি।

অনলাইন থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করার জন্য আপনার জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করা খুবই প্রয়োজন। 

জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার নিয়ম জানুন-ঘরে বসে। 

আপনার হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন বা জন্ম সনদ ডিজিটাল করতে হলে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের পুনর্মুদ্রণ করার উদ্দেশ্যে আবেদন করতে হবে। পুনর্মুদ্রণ বলতে আপনার হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধনের তথ্য গুলোকে হুবহু অনলাইনে সাবমিট করতে হবে।

আপনার জন্ম নিবন্ধন পুনঃমুদ্রন করার জন্য birth certificate এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://bdris.gov.bd/br/reprint/add এই লিংকে প্রবেশ করুন। অথবা Google -এ সার্চ করুন Bangladesh birth certificate লিখে।

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর নিচের ধাপ গুলো মনোযোগ সহকারে  অনুসরন করুন।

প্রথম ধাপঃ হাতে লেখা বা পুরাতন জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার নিয়ম-

আপনি ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করার পর উপরের ছবির মতো একটি ওয়েবসাইট ওপেন হবে। ওয়েবসাইটটিতে জন্ম নিবন্ধনের উপর বিভিন্ন সেবা দেখতে পাবেন।

ওয়েবসাইট হেডারের ‘জন্ম নিবন্ধন’ মেনু থেকে ”জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনঃমুদ্রন” মেনুতে ক্লিক করুন।

প্রত্যেকটা ছবিতে তীর চিহ্ন দিয়ে বিভিন্ন ধাপগুলো দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুন।

দ্বিতীয় ধাপঃ হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার নিয়ম-

দ্বিতীয় ধাপে একটি পেজ ওপেন হবে, সেখানে লেখা থাকবে ’জন্ম নিবন্ধন এর প্রতিলিপির জন্য আবেদন।’ এর নিচে দুটি খালিঘর রয়েছে।

খালিঘর গুলোতে জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিতে হবে। এটি অবশ্যই আপনার হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন থেকে হুবহু কপি করে লিখবেন। কোন রকম ভুল করা যাবে না।

জন্ম নিবন্ধন নম্বর অবশ্যই ১৭ ডিজিটের হতে হবে। উদাহরণস্বরূপঃ জন্ম নিবন্ধন যাচাই 11860915428117332 নম্বর এমন। নিবন্ধনসংখ্যা লিখতে গিয়ে কোনো প্রকার ভুল করা যাবে না।

সঠিক তথ্য দিয়ে “অনুসন্ধান” বাটনে ক্লিক করলেই আপনার আইডি নম্বর, জন্ম তারিখ, নিজের নাম ও বাবা -মায়ের নাম দেখতে পাবেন।

উল্লেখ্য, অনেকের ক্ষেত্রে এমন হয় যে, জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ দেওয়ার পরও কোনো রেজাল্ট প্রদর্শন করে না। আপনি যদি সঠিক তথ্য দিতে ভূল করেন,তবেই এমনটি হতে পারে। 

আপনার জন্ম নিবন্ধনটি হাতে লেখার কারণে অনেক সময় লেখায় ভুল তথ্য উঠে যায়। যে কারণে ওয়েবসাইটের ডেটাবেজে থাকা তথ্যের সাথে হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধনের তথ্য মিলে না। আর সেসব কারনে অনেক ক্ষেত্রে গোলমাল লেগে যায়। মনে রাখবেন, এতে বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ভুল তথ্যের কারণে আপনি হয়তো নিজে অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করতে পারবেন না। তবে আপনি যদি হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধনটি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ অথবা সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ে নিয়ে যান তবে তারাই আপনাকে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে আপনার জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করে দেবে।

তৃতীয় ধাপঃ জন্ম নিবন্ধন এর প্রতিলিপির জন্য আবেদন- 

তৃতীয় ধাপে আপনাকে বেশ কিছু তথ্য দিতে হবে। যেমন আপনার দেশ, বিভাগ, জেলা, উপজেলা / সিটি কর্পোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট, পৌরসভা / ইউনিয়ন, অফিস, নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল ইত্যাদি।

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয়, আবেদনকারী যদি আপনি নিজে হন তবে “নিজ” সিলেক্ট করবেন। আর যদি আবেদনকারী অন্য কেউ হয়, তাহলে সঠিক ঘর সিলেক্ট করে তার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিতে হবে।

তারপর আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর দিতে হবে। আবেদনকারীর যদি ই-মেইল / জি-মেইল থাকে তবে খালিঘরে দিয়ে দেবেন, আর যদি ই-মেইল / জি-মেইল না থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে  Email -এর ঘরটি খালি রাখবেন। 

সঠিকভাবে তথ্য দেওয়ার পর “সাবমিট” বাটনে ক্লিক করুন।

চতুর্থ ধাপঃ পুরাতন জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়ম 

আপনার ডকুমেন্টটি সাবমিট হয়ে গেলে চতুর্থ ধাপে উপরের ছবির মতো একটি পেজ ওপেন হবে। এই পেজে কিছু তথ্য দেখাবে। যেমন, শুরুতেই দেখাচ্ছে ’আবেদনটি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে দাখিল হয়েছে।’তারপর আপনার আবেদন পত্রের নম্বর সহ আরো কিছু কথা বলা রয়েছে।

খুব খেয়াল করে আবেদন পত্রের নম্বরটি সংগ্রহ করুন, কারন এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি পরবর্তী সময়ে কাজে লাগবে। তাই যত্ন করে খাতায় লিখে ফেলুন।

নিচে “আবেদন পত্র প্রিন্ট’ নামের একটি বাটন দেখতে পাবেন। উক্ত বাটনে ক্লিক করলে আপনার জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড হয়ে যাবে পিডিএফ আকারে আর আপনি তখন এটিকে প্রিন্ট করে নেবেন।

আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করে আপনার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয় অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ অথবা সিটি কর্পোরেশন অফিসে জমা দিতে হবে। কোনো কারণে যদি আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করতে না পারেন তবে আবেদন পত্রের নম্বরটি উক্ত অফিসে জমা দিতে হবে।

ইউনিয়ন পরিষদ অথবা সিটি কর্পোরেশন অফিসে আপনার আাবেদন পত্রটি জমা দেওয়ার পর তারা আপনার আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর এবং সীল দিয়ে দেবে।

এজন্য আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে হবে। আবেদনপত্র জমা ও ফি প্রদান করার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ আপনার হাতে লেখা বা এনালগ জন্ম নিবন্ধনটি,কে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনে কনভার্ট করে দেবে।

জন্ম নিবন্ধন ফি কত টাকা তা আপনি আপনার সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন অথবা ইউনিয়ন পরিষদের অফিস থেকে জেনে নিতে পারবেন।

আর এভাবেই আপনি আপনার এনালগ বা হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন বা জন্ম সনদ টি নিজে নিজেই ডিজিটাল করতে পারেন ঘরে বসে।   

আরও কিছু কথাঃ

আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদটি যদি ডিজিটাল থাকে তবে  যে কোনো সময় অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই করা থেকে শুরু করে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোডও করতে পারবেন।

একটি বিষয় মনে রাখবেন, জন্ম নিবন্ধন প্রতিলিপির জন্য আবেদন করার ১৫ দিনের ভেতরেই আপনার সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন অথবা ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি নিয়ে যোগাযোগ করুন।


  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন