মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

সর্বাধিক পঠিত


ইসলাম ও আমাদের শিশু


ইসলাম ও আমাদের শিশু
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আজকের শিশু আগামী প্রজন্মের নাগরিক। একথা আমরা সকলে জানি। আমাদের সমাজে আজ যারা সফল বা প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তি কিংবা ন্যায়ের কর্ণধার তাঁরা সকলে এক সময় শিশু ছিলেন। তাই একটি সমাজ, একটি জনপদ বা দেশকে সুন্দর ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে চাইলে শিশুদের অধিকার রক্ষায় আরও বেশি দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখার পাশাপাশি শিশুকে সুশিক্ষিত ও আদর্শবান করে গড়ে তোলার দিকে বেশি বেশি মনোযোগ দিতে হবে। আর ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিশুদের ভাল মন্দ সুবিধা অসুবিধা দেখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং বড় ধরনের জিম্মাদারি।

শিশুরা যখন কথা বলতে শিখে তখনই তাকে কালিমা শিক্ষা দেয়া উচিত এবং বিসমিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ্‌, আল্লাহু আকবার, ইনশাআল্লাহ্‌, মাশাআল্লাহ প্রভৃতি ইসলামী ভাবাবেগপূর্ণ কথামালাও শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন। শিশু যখনই দাঁড়াতে ও হাঁটতে শিখে তখনই মায়ের অনুকরণে তাকে নামাযের মহড়া করতে অনুপ্রাণিত করা উচিত। শিশুর বয়স যখন সাত বছর হবে তখন মায়েদের উচিত তাদেরকে নামায পড়তে তাগিদ দেয়া। আর এভাবে শিক্ষা দিলেই শিশুরা স্রষ্টা ও মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।

একজন মুসলমান হিসেবে প্রত্যেক মা-বাবার নিজ শিশুদের এতটুকু পরিমাণ ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত করা গুরু দায়িত্ব, যাতে করে সে ইসলামের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা বা জ্ঞান লাভ করতে পারে। সে যেন আল্লাহর পছন্দ-অপছন্দ, হালাল-হারাম, ও জায়েজ-নাজায়েজ, সত্য-মিথ্যা ও ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করে চলতে পারে।

আর এ জন্য বয়স ও মেধা অনুসারে এ সকল কর্তব্য পালনের গুরুত্ব সম্পর্কে শিশুদেরকে সহজ-সরল ও পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রদান করা উচিত। এ ক্ষেত্রে মায়েদের কর্তব্য শিশুদেরকে অতীত ও বর্তমানের মুসলিম মহৎ ব্যক্তিত্বের রোমাঞ্চকর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে পরিচিত করে তোলা এবং তাদের নিজেদের জীবনে ঐ সকল মূল্যবোধ মেনে চলার তীব্র আকাংখা সৃষ্টি করা। শিশুরা যখন একটু বড় হয়ে ওঠে এবং নিজেরা ইচ্ছা করে বই পুস্তক পড়তে পারে তখন বাসগৃহের পরিবেশ এমন সব ইসলামী বই পুস্তক রাখা প্রয়োজন যা শিশুদেরকে পড়তে আকৃষ্ট করে।

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এ জন্যই ইরশাদ করেছেন- পিতামাতা সন্তানকে উত্তম আদব-কায়দা ও স্বভাব চরিত্র শিক্ষাদান অপেক্ষা ভাল কোন ‘দান’ দিতে পারে না। (তিরমিজি শরীফ)। আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে সন্তানদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার উৎসাহ দিয়ে মহানবী (সা.) আরও বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের বিজ্ঞানের নতুন নতুন ধারায় সন্তরণ করতে শেখাও, কেননা ' ফাইন্নাহুম মাখলূকুন লিজামানিন গাইরি জামানিকুম...তারা সৃষ্টি হয়েছে তোমাদের পরবর্তী আরেকটি যুগের জন্য (সে যুগ তোমাদের এ যুগ থেকে হবে আরও আধুনিক)। 

আমরা আমাদের সন্তানদের সাথে আন্তরিকভাবে মিশে পবিত্র মন নিয়ে তাদেরকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলি। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ মতে, শিশুদেরকে হাতে-কলমে জীবন গড়ার বাস্তব প্রশিক্ষণ দেই। সুন্দর সমাজ ও জাতি গঠনে প্রত্যেকের সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করুন।

  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

Comments

Total Comment: 1

  • 07 Oct Sat 2023

    Mises Nasrin Nahar says :

    এ ধরনের নিউজ নিয়মিত প্রকাশ করুন।