শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪

৭১ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস


৫ অক্টোবর ২০২৩, ৫:১১ অপরাহ্ণ 

৭১ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্মলাভ করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ যা বিশ্বমানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছিল। প্রায় ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।

“স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন।” – শামসুর রাহমান

মানুষ হোক কিংবা প্রাণী- পরাধীনতার শৃঙ্খলে কেউ বন্দি থাকতে চায় না। পরাধীন দেশের নাগরিকেরা জানে স্বাধীনতা কতখানি মূল্যবান৷ ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাঙ্গালীর স্বাধীনতা অর্জনের গল্প যেমন গৌরবের তেমনি অশ্রুমাখা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি পাতায় জড়িয়ে আছে স্বজন হারানোর শোক। হাজারো ত্যাগের  বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে বলতে পারি আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।

একদল অত্যাচারী স্বৈরশাসক যখন কোন দেশ বা কোন গোষ্ঠীর উপর অবিচার শুরু করে তখন স্বৈরশাসকদের অত্যাচার থেকে মুক্তির জন্য শুরু হওয়া সংগ্রামকে বলা হয় মুক্তিযুদ্ধ। ৭১ এ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের সর্বকৃষ্ট উদাহরণ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আজও বিশ্ববাসী স্মরণ করে।

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি:

১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ইংরেজদের শাসনামলের অবসানের মধ্য দিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বর্তমান বাংলাদেশের তৎকালীন নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর পূর্ব পাকিস্তানের অধিবাসীদের প্রতি মনোভাব ছিল বিরূপ। তাদের বিরূপ মনোভাবের প্রথম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে। নিজের মায়ের ভাষার সম্মান রক্ষার্থে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রফিক, সালাম, ররকতেরা ১৪৪ ধারা অমান্য করে নেমে এসেছিল রাজপথে। তাদের বুকের তাজা রক্তে ভিজেছিল রাজপথ। ফলশ্রুতিতে, পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকেরা বাধ্য হয় বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দিতে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ধীরে ধীরে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে৷ ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয়দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন ছিল সে প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ। জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। আওয়ামী লীগ ১১ দফার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ও বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়।

৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ:

১৯৭০ সালে জাতীয়  পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় লাভের পরেও পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে সারা দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়৷ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদে অধিবেশন ডাকলেও ১ মার্চ তা মুলতবি ঘোষণা করেন। পূর্ব পাকিস্তানে এ খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্র দেশের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অবশেষে আসে ৭ মার্চ।


তৎকালীন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, গণহত্যার তদন্ত, সামরিক আইন প্রত্যাহার, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মত বিষয়গুলো জনগণের সম্মুখে উপস্থাপন করেন। শেখ মুজিবের অগ্নিঝরা কন্ঠের “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” আজো কোটি বাঙ্গালিকে উজ্জীবিত করে।

২৫ মার্চের কালোরাত্রি:

শেখ মুজিবের নিকট ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা হস্তান্তরের নাটক পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ভেতর প্রবল ক্ষোভের জন্ম দেয়। সারা দেশে শুরু হয় আন্দোলন। অন্যদিকে ইয়াহিয়া খান পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ধীরে ধীরে অস্ত্র ও সামরিক সেনাদের জড়ো করতে থাকে। অবশেষে আসে বাঙ্গালীর ইতিহাসের কালোরাত্রি ২৫ মার্চ। ইয়াহিয়া খান তার সেনাদের কুকুরের মতো লেলিয়ে দেয় ঘুমন্ত বাঙ্গালীর উপর। পৃথিবীর ইতিহাসের ঘৃণিত এই হত্যাযজ্ঞ ‘অপারেশন সার্চ লাইট’নামে পরিচিত। 

বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার ও স্বাধীনতার ঘোষণা:

ইয়াহিয়া খান জানতো, যে বঙ্গে বঙ্গবন্ধু আছে সে বঙ্গে বাঙ্গালীকে যুদ্ধে হারানো এত সহজ হবে না। তাই কাপুরুষের মতো ২৫ মার্চ আক্রমণের রাতে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তবে বঙ্গবন্ধু আগেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ বেলা ২টায় প্রথম চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার করা হয়। মেজর জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ কালুরঘাটস্থ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর নামে স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধ:

২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কাপুরুষের মতো ঘুমন্ত বাঙ্গালীর উপর ঝঁপিয়ে পড়ার পর পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ভেবেছিল বাঙ্গালী আর কখনো তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা ভুলেও ভাববেনা। কিন্তু, তাদের এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়নি। কর্নেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল সিলেটের তেলিয়াপাড়ার চা বাগানে ১৩,০০০ সদস্য নিয়ে মুক্তিফৌজ গঠন করা হয়।


কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে এই বাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ করে মুক্তিফৌজের নামকরণ করা হয় মুক্তিবাহিনী। তার নেতৃত্বে অনিয়মিত গেরিলা বাহিনী এবং নিয়মিত বাহিনী নামে আরো দু’টি বাহিনী গঠন করা হয়। নিয়মিত বাহিনীর অধীনে  জেড ফোর্স, কে ফোর্স এবং এস ফোর্স নামের তিনটি বিগ্রেড বাহিনী গঠন করা হয়। জেড ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, কে ফোর্সের মেজর খালেদ মোশাররফ এবং এস ফোর্সের কেএম শফিউল্লাহ। 

মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি আতাউল গণি ওসমানী সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টর ও ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করেন। মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারদের নাম, সীমানা ও সদর দপ্তর নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

১নং সেক্টর কমান্ডার: 

মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল- জুন), ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম (জুন-ডিসেম্বর)। চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম এলাকা ছিল ১ নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হরিনা ছিল সেক্টর নং ১ এর সদর দপ্তর।

২নং সেক্টর কমান্ডার: 

মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-অক্টোবর), ক্যাপ্টেন এ টি এম হায়দার (অক্টোবর- ডিসেম্বর)। ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশ বিশেষ ছিল সেক্টর ২ এর অংশ। ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল সেক্টর ২। ভারতের ত্রিপুরার মেঘালয় অঞ্চলে সেক্টর নং ২ এর সদর দপ্তর অবস্থিত ছিল৷

৩নং সেক্টর কমান্ডার: 

মেজর কে. এম. শফিউল্লাহ্ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর), মেজর এ.এন.এম. নুরুজ্জামান (অক্টোবর-ডিসেম্বর)। কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ ছিল ৩ নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর নং ৩ এর সদর দপ্তর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কলাগাছিয়ায় অবস্থিত ছিল৷

৪নং সেক্টর কমান্ডার: 

মেজর সি. আর. দত্ত (মে-ডিসেম্বর)। মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ সেক্টর ৪ এর অংশ ছিল। এই সেক্টরের সদর দপ্তর  প্রথমে করিমগঞ্জে থাকলেও পরবর্তীতে আসামের মাছিমপুরে স্থানান্তর করা হয়।

৫নং সেক্টর কমান্ডার: 

মেজর মীর শওকত আলী (আগস্ট- ডিসেম্বর)। বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ  নিয়ে গঠিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের ৫ নং সেক্টর। সেক্টর নং ৫ এর সদর দপ্তর ছিল সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের বাঁশতলায়।

৬নং সেক্টর কমান্ডার: 

উইং কমান্ডার এম. কে. বাশার (জুন-ডিসেম্বর)। রংপুর বিভাগ ছিল সেক্টর ৬-এর অন্তর্ভুক্ত। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল বুড়িমারী, পাটগ্রাম।

৭নং সেক্টর কমান্ডার: 

মেজর খন্দকার নাজমুল হক (এপ্রিল-আগস্ট), মেজর কিউ. এন. জামান (আগস্ট-ডিসেম্বর)। রাজশাহী বিভাগ ছিল সেক্টর ৭-এর অন্তর্ভুক্ত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তরঙ্গপুরে ছিল এই সেক্টরের সদর দপ্তর।

৮নং সেক্টর কমান্ডার: 

মেজর  এম. এ. ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল-আগস্ট), মেজর এম. এ. মঞ্জুর (আগস্ট- ডিসেম্বর)। কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল সেক্টর নং ৮।

৯নং সেক্টর কমান্ডার:

ক্যাপ্টেন এম. এ. জলিল (এপ্রিল-ডিসেম্বর)। সুন্দরবন ও বরিশাল বিভাগ সেক্টর ৯ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল ভারতের বসিরহাটের টাকিতে।

১০নং সেক্টর কমান্ডার:

১০নং সেক্টরের কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না

১১নং সেক্টর কমান্ডার: 

মেজর জিয়াউর রহমান(জুন-আগস্ট), মেজর এ. তাহের (আগস্ট-নভেম্বর), ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম. হামিদুল্লাহ (নভেম্বর-ডিসেম্বর)। বৃহত্তর ময়মনসিং বিভাগ ছিল সেক্টর নং ১১-এর অন্তর্ভুক্ত। ১১ নং সেক্টরের সদর দপ্তর  হিসেবে ভারতের আসামের মহেন্দ্রগঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

যৌথ কমান্ডো বাহিনীর আক্রমণ:

১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর ভারতের কমান্ডার জগজিৎ সিং অরোরার নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ডো গঠন করা হয়। ভারতীয় সেই বাহিনী মিত্রবাহিনী নাম নিয়ে গভীর রাতে বাংলাদেশের সকল রুটে প্রবেশ করে এবং পাকিস্তানের প্রতিটি বিমানঘাটিতে হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীকে অচল করে দেয়। ভারতীয় বিমানবাহিনী কুর্মিটোলা বিমানঘাটিতে ৫০ টন বোমা ফেলে পাকিস্তানের প্রায় এক ডজনের মতো বিমান বিদ্ধস্ত করে। ভারতীয় বিমানবাহিনী ও বাংলাদেশের সশস্ত্র যোদ্ধাদের যৌথ আক্রমণে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত অধ্যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অনেক ভারতীয় সেনা শহিদ হয়।

বুদ্ধিজীবী হত্যা ও আত্মসমর্পণ:

এদেশের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল-শামস বাহিনীর সহায়তায় হানাদার বাহিনী ঝাপিয়ে পড়ে আমাদের দেশের সূর্যসন্তানদের উপর। ১৪ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে এদেশের মুক্তিকামী ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনকারী সকল শিক্ষক, চিকিৎসক, ডাক্তার, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে হত্যা করে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অনেকেরই ক্ষতবিক্ষত দেহ ঢাকার রায়ের বাজারের বধ্যভূমিতে পাওয়া যায়। মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর সাথে যুদ্ধে হানাদার বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়লে মিত্র বাহিনীর ফিল্ড মার্শাল শ্যাম মানেকশ পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজীকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেন। জেনারেল নিয়াজী ১৬ ডিসেম্বর বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অর্থাৎ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে সম্মিলিত বাহিনীর প্রধান জগজিৎ সিং অরোরার নিকট তিনি আত্মসমর্পণ করেন। গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন । ১৬ ডিসেম্বর '১৯৭১ সালে বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়। প্রতি বছর এই দিনটি ''বিজয় দিবস'' হিসাবে পালিত হয়।

বাংলাদেশকে  স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশসমূহ: 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দেশ হওয়ার আগেই ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটানের তৎকালীন রাজা জিগমে দর্জি ওয়াংচুক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি জানিয়ে তারবার্তা দেন। একই দিনে বেলা ১১টার সময় ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে৷ ১৯৭২ সালে ৮৭টি দেশ স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি জানায়। ১৯৭৩ সালে মোট ১৮টি দেশ স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি জানায়। ১৯৭৪ সালে মোট ৭ টি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার আগ পর্যন্ত ১০৪ দেশ (সৌদি আরব ও চীন ছাড়া) বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। অবশেষে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ১৯৭৫-এ সৌদি আরব ও চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

“সাবাশ বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয় জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।।”- সুকান্ত ভট্টাচার্য্য

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সারা বিশ্বকে দেখিয়েছিল কিভাবে নিরস্ত্র এক জাতি দেশপ্রেমের তাগিদে দেশকে পাকিস্তানি হায়েনাদের হাত থেকে মুক্ত করেছিল। যে চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এদেশকে স্বাধীন করেছিল তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো সে চেতনাকে সাথে নিয়ে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলা।


  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন