বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

বেরোবি শিক্ষার্থীদের ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ


বেরোবি শিক্ষার্থীদের ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. এনাম (৪২) নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সার্জেন্ট নিহত হয়। গতকাল শুক্রবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের পার্কের মোডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. এনাম (৪২) কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে।

দুর্ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কামারের মোড থেকে নিহত ব্যক্তি ও মোটরসাইকেলের চালক (সম্পর্কে তালুই) দুর্ঘটনাস্থলে আসলে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার সাথে ধাক্কা লেগে নিহত ব্যক্তি পিছন থেকে পড়ে যায়। এসময় বিপরীত দিক থেকে উচ্চ গতিতে একটি ট্রাক এসে তাকে চাপা দিয়ে চলে যায় এবং ঘটনার স্থলে তার মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানান, এখনো আমরা এই ঘটনা সম্পর্কে কিছু বলতে পারছি না। আমরা ঘটনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। এদিকে এই দুর্ঘটনার পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে।

শিক্ষার্থী জাকের হোসেন পাশা বলেন, আমরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে পথচারী পারাপারের কোন ফুটওভার ব্রিজ নেই, গাড়ি গতিরোধের কোন স্পিড ব্রেকার নেই ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সহ অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এর আগেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে কিন্তু প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করেছে। রাস্তায় স্পিড ব্রেকার না থাকায় আজকের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রংপুর সিটি কর্পোরেশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি তুলে ধরেন এবং আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ ও স্পিড ব্রেকার নির্মাণের আল্টিমেটাম দেন। এসময় শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এর আগেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে যা আমরা অবগত আছি। আগামীকাল আমরা আপনাদের দাবি নিয়ে আলোচনায় বসবো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফুটওভার ব্রিজ ও স্পিড ব্রেকার নির্মাণের জন্য অতিসত্বর কাজ শুরু করবো।

এরপর শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত হয়ে ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড় খুলে দেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।