চুয়াডাঙ্গায় অভিযানে আটক বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন
২৪ জানুয়ারী ২০২৪, ৪:২০ অপরাহ্ণ
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনে পরাজিত নৌকার প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ গোলাম রাশেদ বাদি হয়ে হরিরামপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, হরিরামপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মোল্লা এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত চৌধুরী। তারা দুজনেই দলীয় প্রার্থী মমতাজ বেগমের কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন।
নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ না করায় উপজেলা গালা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. শাখাওয়াত হোসেনকে মারধোর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এই মামলার নির্দেশ দেয় ইসি৷
গত ১১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মো. আব্দুছ সালাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে থানায় এজাহার দায়ের করতে বলা হয়।
ইসির চিঠিতে বলা হয়, মানিকগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক ফরিদ মোল্লা ও রিফাত চৌধুরী গত ২৬ ডিসেম্বর নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণে অস্বীকার করায় মো. শাখাওয়াত হোসেনকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেছেন। তারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৭ বিঘান লঙ্ঘন করেছেন মর্মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এমতাবস্থায়, তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৩ এর অধীনে অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার দায়ের করার জন্য নির্বাচন অফিসারকে অনুরোধ করা হলো।
মামলার বাদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ গোলাম রাশেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মোল্লা ফরিদ ও রিফাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ নূর এ আলম বলেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোল্লা ফরিদ ও রিফাত চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৭ ডিসেম্বর মোল্লা ফরিদ ও রিফাত চৌধুরীসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের নামে হরিরামপুর থানায় প্রাণে মেরে ফেলার হুমকির অভিযোগে মামলা করেন ইউপি সদস্য মো. শাখাওয়াত হোসেন। নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর সমর্থক হিসেবে কাজ করেছেন। নির্বাচনে টুলুর কাছে ছয় হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন মমতাজ বেগম।
এছাড়া, গত ১ জানুয়ারি নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে দেওয়া লিখিত জবাবে আসামিরা বলেছেন, প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। তাদেরকে নির্বাচনি প্রচারণা থেকে বিরত রাখার জন্য বাদি এ অভিযোগ করেছেন। তারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৭৭ অনুচ্ছেদের বিধি লঙ্ঘন করেননি।