সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪

নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী


২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ 

নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আলমগীর সিকদার লোটন। সেই সঙ্গে ওই আসনের ২৩ প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও নির্বাচনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোট গ্রহণ কর্মকাণ্ড থেকে এই ২৩ জনকে বিরত রাখতে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করেছেন জাপা প্রার্থী আলমগীর সিকদার লোটন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের কাছে এই আবেদনপত্র জমা দেন তিনি।

আবেদনপত্রে আলমগীর সিকদার লোটন অভিযোগ করেন, নিম্নে উল্লিখিত ব্যক্তিরা গত স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বিতর্কিত হয়েছিলেন। কারণ তারা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে রাজনীতি করে থাকে এবং সরাসরি তার কর্মী।

এছাড়া গত ২৫ ডিসেম্বর ওই ২৩ জনের মধ্যে ৯ জন উপজেলার খাগকান্দা এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়েছেন এবং নৌকার পক্ষে ভোট চান। তারা হলেন প্রিসাইডিং অফিসার গিয়াস উদ্দিন সরকার, জাহেদুল হক, কফিলউদ্দিন, শাখাওয়াত হোসেন, হায়াতুজ্জামান, আহাম্মদ আলী, জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, জানে আলম, মো. ফজলুল হক, দুলাল মিয়া, মইনুল হোসেন, মোজাম্মেল হক, ফারুক হোসেন, মোতাহার হোসেন, মৃদুল কান্তি পাল, মাহাবুব আলম, সোলায়মান মিয়া, লোকনাথ পোদ্ধার, দেলোয়ার হোসেন, নুরুল হক ও আনোয়ারুজ্জামান খান। সহকারী প্রিসাইডিংরা হলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন ও লোকমান হোসেন।

লিখিত আবেদনে লোটন আরও উল্লেখ করেন, এ সকল ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাকে একাধিকবার এমপি বাবুর সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। এমপি বাবু এবার নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার পর এ সকল শিক্ষক ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কেউবা দু' আঙুল উঁচিয়ে ভি চিহ্ন দেখিয়েছেন। যার প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।

ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় এ সকল দলকানা শিক্ষকদের বিভিন্ন ছবি প্রকাশিত হয়েছে। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বাদ দিয়ে তার প্রতিষ্ঠিত একটি কিন্ডারগার্টেন ইউনাইটেড স্কুল এন্ড কলেজ থেকে অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ১৪ জন লোক ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, মোজাম্মেল নামের একজন প্রিজাইডিং অফিসার মাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মইনুল হোসেন মানিক ফতেহপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব রয়েছে। অথচ তাদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যা আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ফেসবুক পেজ থেকে পেয়েছি।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুর স্ত্রী সায়মা আফরোজ ইভা আড়াইহাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত। শোকজের পর তার দলবল নিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছে। তার অধীনের সকল কর্মকর্তা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছে। সেই সাথে তারা বাবুর পক্ষে ভোটও চাইছেন। এতে করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমি সন্দেহ প্রকাশ করছি। আমি তদন্ত সাপেক্ষ এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহমুদুল হক বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।