শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভুল সংশোধনের নিয়ম জানুন


২৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ 

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভুল সংশোধনের নিয়ম জানুন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ড্রাইভিং লাইসেন্স কি এটা আমরা সবাই জানি। তবে ড্রাইভিং লাইসেন্স হচ্ছে মূলত মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ অনুযায়ী সড়কে বা সর্ব সাধারণের ব্যবহার্য জায়গায় গাড়ি চালানোর অনুমতি পত্র বা কার্ড। অর্থাৎ এই কার্ডের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সড়কে বা সর্ব সাধারণের মধ্যে গাড়ি চালানোর অনুমতি পান। তবে এই ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে যে গাড়ি চালানো যাবে না এই নজির বাংলাদেশে খুব কমই দেখা যায়। আবার ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীনভাবে গাড়ি চালাতে অনেকেই মামলা খেয়েছেন এমন নজিরও কম নেই।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি কি লাগে?

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আপনার প্রথমেই একটি লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন হবে। এই লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে দেওয়া হয় থাকে। তবে আপনি এটি প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা বিশেষ করে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে পেতে পারেন। কিন্তু এর জন্য বেশ কিছু শত্য রয়েছে। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রথমে আপনার বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। কিন্তু অপেশাদার হিসাবে, এটি ১৮ বছর হলেই হবে।

লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

১. প্রথমত আপনার প্রয়োজনীয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্ধারিত আবেদন ফরম।
২. রেজিস্ট্রার ডাক্তার কর্তৃক আপনার উপযুক্ত ফিট মেডিকেল সার্টিফিকেট।
৩. জাতীয় পরিচয়পত্র বা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের সত্যায়িত কপি অথবা স্ক্যান কপি।
৪. সদস্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
৫. প্রয়োজনীয় ব্যাংক ড্রাফ্ট (বিভাগ অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন হয়)।

আরও পড়ুন

সহজে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম

আপনি উল্লিখিত নথিগুলি জমা দিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার হতেও লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড গ্রহন করতে পারেন। আপনি যদি লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে থাকেন তবে এখন আপনাকে বিআরটি অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ নির্ধারিত ফর্মে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। এরপর লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তবেই আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন।

ধরুন আপনি ভোটার হওয়ার আগে অর্থাৎ আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন করার আগে ইতিমধ্যেই আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স নিবন্ধন করেছেন। এখন আপনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য দেখতে পারবেন। সুতরাং আপনি এখন কি করবেন? হ্যাঁ আমরা এই বিষয়বস্তুর মাধ্যমে আপনাকে বলতে যাচ্ছি।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধন কীভাবে করবেন:

ড্রাইভিং লাইসেন্সে ভুল তথ্য সংশোধন করতে নিম্নলিখিত কাগজপত্রাদি প্রয়োজন।
১. সাদা কাগজে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন।
২. ফি জমার রসিদ
৩. চাহিত সংশোধনীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি।

সাদা কাগজে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের সাথে আবেদন:

আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ডে কোনো ভুল থাকলে ভাববেন না আপনি এটা আর সংশোধন করতে পারবেন না। ত্রুটি সংশোধনের জন্য একটি প্রক্রিয়া আছে। তবে এর জন্য কিছু সময়ের প্রয়োজন। আপনি চাইলে হুট করে এটি সংশোধন করতে পারবেন না।

আরও পড়ুন

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করুন ঘরে বসে

এখন আসি নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সাদা কাগজের আবেদন। এই আবেদন আবার কি? এটাই মূল বিষয়। কি ভুল হয়েছে এবং কেন হয়েছে তার বিস্তারিত একটি আবেদনপত্র। ধরুন ইমরান নামক ব্যক্তির নিজের পিতার নাম ও নিজের জন্ম তারিখ ভুল হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে একটি নমুনা দরখাস্ত লেখা হলো-

বরাবর,
নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সড়ক ও পরিবহন বিভাগ
.........জেলা, অফিস..........
বিষয়: ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্ম তারিখ ও পিতার নাম সংশোধন প্রসঙ্গে।

জনাব,
যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক নিবেদন এই যে, আমি মো: ইমরান হাসান, পিতা: মো: কুদ্দুস আলী, গ্রাম: সেগুন বাগিচা, জেলা: ঢাকা। আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহনের সময় ভুল বশত আমার জন্ম তারিখ ও পিতার নাম ভুল হয়েছে। কিন্তু আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা আছে। এমতাবস্থায়, আমি নিম্নোক্ত তথ্য সারণী অনুযায়ী আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করছি।

অতএব, মহোদয় সমীপে প্রার্থনা উপরোক্ত বিষয়টি আপনার আমলে নিয়ে আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ভুল লিপিবদ্ধ তথ্য সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার সদয় মর্জি হয়।

বিনীত নিবেদক
(মো: ইমরান হাসান) 
পিতা: মো: কুদ্দুস আলী 
সেগুন বাগিচা, ঢাকা। 
ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর- 
মোবাইল নম্বর-

ফি জমার রসিদ:

উপরোক্ত দরখাস্তটি কাজ সম্পূর্ণ হলে এবার আপনি প্রয়োজনীয় ব্যাংক ড্রাফ্ট/ব্যাংক এ জমা করে রশিদটি সংগ্রহ করুন। এরপর আপনি আপনার রশিদটি আবেদনের সহিত সংযুক্ত করুন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত:

উপরোক্ত কার্যক্রম সবগুলো হয়ে গেলে এবার আপনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি আবেদনের সহিত সংযুক্ত করুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হল আপনার আবেদনপত্র, ব্যাংক ড্রাফটের রসিদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি। অর্থাৎ আপনি যা যা ভুল হয়েছে তার বিপরীতে যথাযথ প্রমাণের কপি।

উল্লেখ্য আপনার আবেদন জমা দেওয়ার সময় আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি কর্তৃপক্ষ নিয়ে নিতে পারে এবং এর পরিবর্তে আপনাকে একটি অস্থায়ী রসিদ দিতে পারে। সেটি দিয়ে আপনি আপনার সংশোধিত ড্রাইভিং লাইসেন্স না পর্যন্ত সকল কাজ করতে পারবেন।

  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন