মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

জমির দলিল হারালে কী করবেন? আইন অনুযায়ী নতুন দলিল সংগ্রহের সহজ পথ


জমির মূল দলিল (রেজিস্ট্রি কপি) হারিয়ে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত ভূমি আইন অনুযায়ী, দলিল হারানো, চুরি হওয়া বা আগুনে পুড়ে গেলেও নির্দিষ্ট কিছু আইনি ধাপ অনুসরণ করলে নতুন করে বৈধ দলিল কপি সংগ্রহ করা সম্ভব।

৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ 

জমির দলিল হারালে কী করবেন? আইন অনুযায়ী নতুন দলিল সংগ্রহের সহজ পথ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশে জমির মালিকানা প্রমাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি হলো রেজিস্ট্রিকৃত দলিল। এই দলিল হারিয়ে গেলে অনেক সময় জমির মালিকরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। তবে আইন অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করলে মূল দলিল না থাকলেও মালিকানা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

প্রথম ধাপ: সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা

জমির দলিল হারিয়ে গেলে সর্বপ্রথম নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করতে হবে। জিডিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে- 

১। দলিল হারানোর সময়, স্থান ও পরিস্থিতি

২। দলিল নম্বর ও তারিখ (যদি জানা থাকে)

৩। দলিলদাতার নাম

৪। জমির মৌজা, দাগ, খতিয়ান নম্বর ও জমির পরিমাণ

এই জিডি ভবিষ্যতের সব আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

দ্বিতীয় ধাপ: হলফনামা (অফিডেভিট) প্রস্তুত

জিডি করার পর স্ট্যাম্প পেপারে একটি হলফনামা করতে হবে। এটি প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়। হলফনামায় উল্লেখ থাকবে- 

১। দলিল কীভাবে হারিয়েছে, নষ্ট হয়েছে বা পুড়ে গেছে

২। সংশ্লিষ্ট জমির মালিক হিসেবে আপনার দাবি

৩। থানায় করা জিডির নম্বর ও তারিখ

এই হলফনামা আপনার মালিকানা দাবিকে আইনি ভিত্তি প্রদান করে।

তৃতীয় ধাপ: সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সত্যায়িত কপি সংগ্রহ

মূল দলিল হারালেও তার একটি কপি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত থাকে। সেখান থেকে সত্যায়িত কপি (Certified Copy) সংগ্রহ করা যায়।
এর জন্য যা প্রয়োজন- 

১। দলিল নম্বর ও তারিখ উল্লেখ করে আবেদন

২। নির্ধারিত ফি প্রদান

৩। জিডির কপি

৪। হলফনামা

৫। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি

এই সত্যায়িত কপিই পরবর্তীতে মূল দলিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

চতুর্থ ধাপ: ভূমি অফিসে দলিল কপি দাখিল

নতুন করে পাওয়া সত্যায়িত কপি দিয়ে নামজারি, খতিয়ান সংশোধন বা সার্ভে সংক্রান্ত কাজে ভূমি অফিসে আবেদন করতে হবে।
সাধারণত প্রয়োজন হয়- 

১। সত্যায়িত দলিল কপি

২। হলফনামা

৩। জাতীয় পরিচয়পত্র

৪। প্রয়োজনে ওয়ারিশ সনদ

এই ধাপ সম্পন্ন হলে জমির প্রশাসনিক রেকর্ড হালনাগাদ করা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

কখনোই নকল বা ভুয়া দলিল তৈরি করবেন না । দালাল বা অবৈধ চক্রের মাধ্যমে জাল কাগজ বানানোর চেষ্টা করবেন না। জমি সংক্রান্ত কোনো জটিলতা বা সন্দেহ থাকলে অবশ্যই আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে দলিল হারানো কোনো বড় সমস্যা নয়। বরং তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নিলেই ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।