বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

আপনার জমির দলিল অনলাইনে? জেনে নিন করণীয়


বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় আসছে এক বড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের এনালগ পদ্ধতির অবসান ঘটিয়ে সরকার ১৯০৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সংরক্ষিত সব দলিল ধাপে ধাপে ডিজিটাল করে অনলাইনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ভূমি মালিকরা ঘরে বসেই দলিল খোঁজা, যাচাই ও সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।

২ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ 

আপনার জমির দলিল অনলাইনে? জেনে নিন করণীয়
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশে ভূমি মালিকদের জন্য একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কাগজনির্ভর ও এনালগ পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দলিল রেজিস্ট্রেশন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯০৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সংরক্ষিত সব দলিল ধাপে ধাপে স্ক্যান করে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা হবে।

এই ডিজিটাল কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে মাত্র কয়েক ক্লিকেই অনলাইনে দলিল খুঁজে পাওয়া, যাচাই করা এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করে কপি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। ভূমি আইনজীবী জাহাঙ্গীর এ উদ্যোগকে ভূমি মালিকদের জন্য বড় সুখবর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এখন যে কেউ পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে নিজের দলিল অনলাইনে ডাউনলোড করতে পারবেন।”

১১৭ বছরের দলিল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের মতো যুদ্ধকালীন সময়ে হারিয়ে যাওয়া বহু দলিল অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে না।  সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১৭ বছরেরও বেশি সময়ের দলিল একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় কাজ শুরু হয়েছে। তবেএ ধরনের দলিল যাদের কাছে কপি আছে, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসে কপি জমা দিয়ে অনলাইনকরণের জন্য আবেদন করতে হবে।

দুর্নীতি ও প্রতারণা রোধে বড় পদক্ষেপ

ভূমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও দুর্নীতি রোধ করাই এই ডিজিটাল প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে অনুপস্থিত মালিকদের জমি জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করার প্রবণতা বন্ধে অনলাইন দলিল ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ভূমি আইনজীবী জাহাঙ্গীর জানান, আগে রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল খোঁজার ক্ষেত্রে ঘুষ দিতে হতো ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত, যেখানে সরকারি নির্ধারিত ফি ছিল মাত্র ২০ টাকা। ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে এই হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধ হবে।

ভূমি মালিকদের করণীয়

প্রকল্প বাস্তবায়নের পর সরকার একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট চালু করবে, যেখানে দলিল খোঁজা, যাচাই এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে কপি ডাউনলোড করা যাবে। এমনকি মূল দলিল হারিয়ে গেলেও অনলাইন কপি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।

ভূমি মালিকদের জন্য কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে- 

ডিজিটাল সিস্টেম চালু না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

যেসব দলিল অনলাইনে পাওয়া যাবে না, সেগুলোর কপি নিজ উদ্যোগে রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিতে হবে।

জাল বা ভুয়া দলিল অনলাইন সিস্টেমে গ্রহণযোগ্য হবে না।

দীর্ঘমেয়াদী সুফল

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জমি সংক্রান্ত বিরোধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। প্রতারণা ও হয়রানি বন্ধ হবে। প্রবাসীদের জন্য দলিল সংগ্রহ সহজ হবে এবং সামগ্রিকভাবে নাগরিক সেবা দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য হবে বলে মনে করছে সরকার।